
পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় রাজি হয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক দাবির পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তবে সংসদে আলোচনা ও সরকারের বক্তব্যের সময় বিরোধীদের হট্টগোল না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কিরেন রিজিজু জানান, ছাত্র আন্দোলন এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধী দলকে শান্ত থেকে তা শোনার আহ্বান জানান তিনি।
রিজিজুর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার সংসদে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করবে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে বক্তব্য দেবেন। সরকারের জবাবের সময় সংসদের পরিবেশ যাতে হট্টগোল বা গোলযোগের কারণে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে বিরোধীদের সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।
সরকারের এই অবস্থানের আগে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত কলামে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি আক্রমণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো তদন্তের নির্দেশ দেননি এবং এ বিষয়ে কোনো বক্তব্যও দেননি। তিনি আন্দোলনকারীদের দমন করতে কাঁদানে গ্যাস, পেরেকযুক্ত লাঠি ও পেল্ট গান ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
এ ছাড়া বিহারের সিওয়ানে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর একে-৪৭ দিয়ে গুলি চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগও করেন তিনি।
এর আগে গত ২০ জুলাই নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের দিকে বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
ঘটনার পর বিরোধী দলগুলো এর তীব্র সমালোচনা করে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি দাবি করে আসছিল। বিরোধীদের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক সহিংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এখন কেন্দ্রীয় সরকারের সংসদে আলোচনায় সম্মতির ফলে ছাত্র আন্দোলন ও পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।