
বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের একটি বক্তব্য। রবিবার (৯ আগস্ট) মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আশরাফুল হক ডনকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানিতে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার জন্য ডনের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার আরেক আসামি রিজভী আহমেদ অন্য একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এ তথ্য উল্লেখ করেছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার সঙ্গে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের কথিত ব্যক্তিগত সম্পর্কের জের ধরে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি রাষ্ট্রপক্ষের আদালতে উপস্থাপিত দাবি। আদালত এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ বা রায় দেননি এবং অভিযোগগুলোর বিচারিক সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।
এর আগে রবিবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আশরাফুল হক ডনকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডি-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ডন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। জামিন পেলে তিনি পুনরায় পলাতক হতে পারেন এবং তদন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুনানিতে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন (সালমান শাহ)-কে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় তিন দশক পর মামলার তদন্ত নতুন গতি পাওয়ায় ডনের গ্রেপ্তার এবং আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত এই দাবি বিষয়টিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।