
ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে বিভিন্ন যানবাহনের ওপর ড্রোন দিয়ে তথাকথিত ‘ফ্রি হান্টিং’ বা মুক্ত শিকারের নির্দেশ দিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে এ বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রচলিত ড্রোনের পাশাপাশি ফাইবার অপটিক কেবল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহারের কারণে ওই অঞ্চলে বেসামরিক ও সামরিক যানবাহনের চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফাইবার অপটিক ড্রোন সরাসরি কেবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় প্রচলিত রেডিও ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তি দিয়ে এগুলোকে সহজে নিষ্ক্রিয় করা যায় না। ফলে এসব ড্রোন ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে তুলনামূলক নির্ভুলভাবে হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
খেরসন অঞ্চলে এই ধরনের অভিযানের জন্য রুশ ড্রোন অপারেটর ও বিশেষায়িত ড্রোন ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। দূর থেকে ইউক্রেনীয় সামরিক পরিবহনের মতো মনে হতে পারে—এমন যানবাহন শনাক্ত করে হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এর ফলে সাধারণ বেসামরিক যানবাহন ও বাসও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
বিশেষ করে বাজার, গ্যাস স্টেশন ও সুপারমার্কেটের মতো জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় যানবাহন বেশি থাকায় সেখানে হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্তৃপক্ষ রাস্তা ও ভবনের প্রবেশপথে ড্রোন প্রতিরোধী জাল বা অ্যান্টি-ড্রোন মেশ ব্যবহারের উদ্যোগ বাড়িয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধারাবাহিক ড্রোন নজরদারি ও হামলাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে। তাদের কেউ কেউ এটিকে পরিকল্পিত ‘হিউম্যান সাফারি’ বা আতঙ্ক সৃষ্টিকারী অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
খেরসন অঞ্চলে ড্রোনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির বিস্তার ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। এর ফলে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ আরও বাড়ছে।