
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ এমন পরিস্থিতির অবসান চায় ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, এ লক্ষ্যেই ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা চলছে। তেহরান আশা করছে, ওমানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অচলাবস্থা কাটাতে সহায়ক হবে।
সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বর্তমানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে সীমিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমান সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের সম্ভাব্য একটি পথ নিয়ে আলোচনা করছে।
তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে ইরানের বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন দাবি পূরণ করতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি একাধিক শর্তের ওপর নির্ভর করছে। দেশটির নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাকের জুলকাদরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত জলপথটিতে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল শুরু হবে না।
ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করা, দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।
তেহরানের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তা লঙ্ঘন করেছে। এ কারণে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা দুই দেশের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোর নতুন কোনো পথ তৈরি করে কি না, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।