
বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক পরিত্যক্ত ভবন বর্তমানে মাদকসেবীদের অবাধ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই এসব ভবনে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে মাদকসেবীরা জড়ো হয় এবং প্রকাশ্যে মাদক সেবন করে। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা ভবনগুলোতে কোনো নজরদারি না থাকায় মাদকসেবীরা সেগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ভেতরে ও আশপাশে মাদকের আলামত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সন্ধ্যার পর সেখানে বহিরাগত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়, যা হাসপাতাল এলাকায় অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে এসব মাদকসেবী চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়াচ্ছে। পাশাপাশি তারা পরিত্যক্ত ভবনগুলোর লোহার বিম, দরজা, জানালা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী খুলে বিক্রি করছে। এর ফলে সরকারের কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভবনগুলোর অবকাঠামো এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে ছাগল ও মুরগি পালনের দৃশ্যও দেখা গেছে। দিনের বেলায় আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরো প্রাঙ্গণে গরু-ছাগলের অবাধ চলাচল চোখে পড়ে। যেখানে-সেখানে পশুর মলমূত্র ত্যাগের কারণে হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে নোংরা হয়ে উঠছে। এতে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, সন্ধ্যার পর হাসপাতাল এলাকায় চলাচল করতে তারা ভয় পান। অনেক সময় মাদকসেবীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নারী রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এসএম মাইদুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট চারটি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। এসব ভবনে মাদকসেবীদের আড্ডা বসার বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার ও পরিবেশ উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।