
ইসলামে গুনাহ বা পাপ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। মানুষের বিভিন্ন কাজ তাকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে এবং পরকালে কঠিন পরিণতির কারণ হতে পারে। তবে আল্লাহ তাআলা পরম করুণাময় ও ক্ষমাশীল। বান্দা অনুতপ্ত হয়ে ফিরে এলে তাঁর রহমত লাভের সুযোগ রয়েছে।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, মানুষের ওপর যে বিপদ আসে, তা অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের কৃতকর্মের ফল; একই সঙ্গে আল্লাহ অনেক কিছু ক্ষমা করে দেন। ফলে মুমিনের জন্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং সৎ আমল করা গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামে শিরককে সবচেয়ে বড় গুনাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর পাশাপাশি কিছু কবিরা গুনাহের ব্যাপারেও কঠোর সতর্কতা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা। সহিহ হাদিসে মানুষ হত্যাকে বড় কবিরা গুনাহগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করার জন্য জাহান্নাম, আল্লাহর ক্রোধ ও অভিশাপ এবং মহাশাস্তির সতর্কবার্তা এসেছে।
অন্যদিকে, বাবা-মায়ের অবাধ্যতাও ইসলামে গুরুতর কবিরা গুনাহ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহর ইবাদতের পরই বাবা-মায়ের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তারা বার্ধক্যে পৌঁছালে তাদের বিরক্ত করে ‘উফ’ না বলা, ধমক না দেওয়া এবং সম্মানের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ রয়েছে।
হাদিসে বাবা-মায়ের একজন বা উভয়কে বার্ধক্যে পেয়েও তাদের সন্তুষ্ট করতে না পারাকে বড় ক্ষতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য এক হাদিসে বাবা-মাকে সন্তানের জান্নাত ও জাহান্নামের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
তাই ইসলামী শিক্ষায় শুধু গুনাহ থেকে দূরে থাকাই নয়, বাবা-মায়ের সঙ্গে সদাচরণ, মানুষের জীবনের মর্যাদা রক্ষা এবং আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করাকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। পরকালে সফলতার জন্য সৎ আমল ও নৈতিক জীবনযাপনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।