
পাকিস্তানে গত তিন দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে ২৯ জন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। একই সময়ে অভিযানে সেনাবাহিনীর এক ক্যাপ্টেন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআর এসব তথ্য জানায়।
সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৭ আগস্ট) খাইবার পাখতুনখোয়ার হাঙ্গু জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে সাতজন সশস্ত্র সদস্য নিহত হন। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় ২৭ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন হামজা আকরাম নিহত হন। তিনি নারোয়াল জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) খাইবার পাখতুনখোয়ায় পৃথক দুটি অভিযানে আরও ১০ জন নিহত হন। দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি পোস্টে হামলার চেষ্টা করলে আটজন নিহত হন। একই দিনে দির জেলায় চালানো আরেক অভিযানে আরও দুজন নিহত হন।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানের ওয়াশুক ও মাস্তুং জেলায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার চালানো পৃথক অভিযানে আরও ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। এর মধ্যে ওয়াশুকে ছয়জন এবং মাস্তুংয়ে ছয়জন নিহত হন। মাস্তুংয়ে একটি আস্তানাও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সামরিক বাহিনী।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সশস্ত্র হামলার ঘটনা বেড়েছে। এসব হামলার সঙ্গে আফগানিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জড়িত বলে অভিযোগ করে আসছে ইসলামাবাদ। তবে আফগানিস্তান পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত তিন দিনের এসব অভিযানের ঘটনায় পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাদের কোন কোন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল, সে বিষয়ে প্রদত্ত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।