
চিকিৎসা প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ ও দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবার দিকে এগোচ্ছে ভারত। নাগরিক-কেন্দ্রিক বিভিন্ন নীতির আওতায় দেশটির স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও মেড-টেক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় ব্যক্তিগত ব্যয়ের হার এক দশকে ৬৫ শতাংশ থেকে কমে ৪৩ শতাংশে নেমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘প্রধানমন্ত্রী-আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মিশন’-এর আওতায় ভারতের বিভিন্ন ল্যাবরেটরি আধুনিকীকরণ, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রোগ নজরদারি ব্যবস্থার পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নীতি ২০২৩’ এবং ‘প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ’ প্রকল্পের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের ফলে ৫০টিরও বেশি উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম এখন ভারতের অভ্যন্তরেই উৎপাদিত হচ্ছে। আগে ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরতা থাকায় চিকিৎসা ব্যয় বাড়ত। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, সাশ্রয়ী ইমেজিং সিস্টেম ও ডিজিটাল ডায়াগনস্টিকসের ব্যবহার বাড়ায় রোগ নির্ণয়ের সময় ও খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ভারতের মেড-টেক বাজার এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম এবং বিশ্বের শীর্ষ ২০টি বাজারের মধ্যে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। দেশটির মেড-টেক বাজারের আকার ১৫ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার এবং এটি বছরে প্রায় ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে।
‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে উন্নত ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন ও রপ্তানির সক্ষমতা বাড়াতে চায় ভারত। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে একদিকে চিকিৎসা সরঞ্জামের আমদানিনির্ভরতা কমানো, অন্যদিকে বৈশ্বিক মেড-টেক বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।