
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন ভবিষ্যতে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে না পারেন—সে লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটি প্রস্তাব পাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যুদ্ধক্ষমতা–সংক্রান্ত এই প্রস্তাব, যা ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ নামে পরিচিত, বৃহস্পতিবার সিনেটে আলোচনার জন্য অনুমোদন পেয়েছে।
প্রস্তাবটি আলোচনায় তোলার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫২ জন সিনেটর এবং বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৪৭টি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একমত হয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এর ফলে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই উদ্যোগের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বছর ধরে ভেনেজুয়েলাকে তদারকি করতে পারে এবং দেশটির তেলের রাজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখার সম্ভাবনাও রয়েছে। কতদিন এই তদারকি চলবে—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘সময়ই তা বলে দেবে।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, এই মেয়াদ তিন বা ছয় মাস নয়, বরং আরও দীর্ঘ হতে পারে।
ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া নিয়েও ট্রাম্পের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। একসময় কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেও সম্প্রতি তাঁকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। এতে করে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা আপাতত কমে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এর আগে গত শনিবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলায় এক বিতর্কিত সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে কারাকাসের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। এ ঘটনার পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে ‘অত্যন্ত লাভজনকভাবে পুনর্গঠন’ করতে চায়।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে ‘খুব ভালো’। দেলসি রদ্রিগেজ ছিলেন মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাঁর সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এদিকে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির শীর্ষ আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি ও ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরির একটি উদ্যোগ।
হোর্হে রদ্রিগেজ দাবি করেন, এই মুক্তির সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হয়েছে এবং কোনো পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নয়। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় এখনো বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক বন্দী রয়েছেন। স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোরো পেনাল’-এর হিসাবে, বর্তমানে দেশটিতে ৮৬৩ জন রাজনৈতিক বন্দী আছেন, যাঁদের মধ্যে রাজনীতিক, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীরাও রয়েছেন।
সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলা সংকট এখন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।