
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন আর শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা লেখা তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নতুন প্রজন্মের এআই এজেন্ট মানুষের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিতে, পরিকল্পনা করতে এবং একাধিক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম। তবে এই সক্ষমতার পাশাপাশি সামনে এসেছে নতুন এক আইনি ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ।
রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক এবং মেটা সম্প্রতি এমন কয়েকটি ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে তাদের এআই এজেন্ট অন্য প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল অবকাঠামোতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের একটি এআই এজেন্ট পরীক্ষার সময় হাগিং ফেস (Hugging Face)–এর একটি সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল। এছাড়া আরও কিছু ঘটনায় নির্ধারিত নিরাপত্তা সীমা অতিক্রম করার ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, গত এপ্রিল থেকে তাদের ক্লড (Claude) এআই মডেল পরীক্ষার সময় তিনটি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল। একই ধরনের একটি ঘটনার কথা জানিয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পরীক্ষার পরিবেশে একটি প্রযুক্তিগত কনফিগারেশন ত্রুটির কারণে তাদের এআই মডেল অনিচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট সংযোগ পেয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে প্রবেশ করে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনায় শুধু ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান নয়, বরং—
প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস বা নিরাপত্তা ব্যর্থতার ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণের দাবিও উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিকভাবে দায়ের মুখে পড়তে পারে এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, কারণ তাদেরই প্রমাণ করতে হবে যে এআই তৈরি, পরীক্ষা ও ব্যবহারের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
তবে শুধু নির্মাতা নয়, যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের কার্যক্রমে এআই ব্যবহার করছে কিংবা যাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে, তারাও আইনি জটিলতায় পড়তে পারে। একটি ঘটনার জন্য একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একসঙ্গে মামলা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ হতে পারে অবহেলা (Negligence)। আদালতে প্রশ্ন উঠতে পারে—
যুক্তরাষ্ট্রের Computer Fraud and Abuse Act (CFAA)-এর আওতায়ও আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে স্বয়ংক্রিয় এআইয়ের ক্ষেত্রে 'ইচ্ছাকৃত অপরাধ' কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট বিচারিক নজির তৈরি হয়নি।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এসব ঘটনা ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং পরীক্ষার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ঘটেছে। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং এ ধরনের আচরণ আগে থেকে অনুমান করা কঠিন ছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নতুন আইন অনুযায়ী, শুধু "এআই নিজে করেছে"—এই যুক্তি দেখিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান দায় এড়াতে পারবে না। প্রয়োজনে আদালতে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই এজেন্ট যত বেশি স্বয়ংক্রিয় ও সক্ষম হবে, ততই এ ধরনের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এখনই এআই ব্যবহারের নিরাপত্তা নীতি, আইনি দায়-দায়িত্ব এবং জবাবদিহির কাঠামো স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে এআই-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলা, ক্ষতিপূরণ মামলা এবং আইনি বিরোধ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।