
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতে বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলে না—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে রাজধানীতে নিজ বাসভবনে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাফল্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিষয়টি আবেগ দিয়ে নয়, বরং গভীর গবেষণা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ ছিল না। বিশেষ করে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বললেই চলে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রদলসহ অন্য সংগঠনগুলোকে অবাঞ্ছিত করে রাখার ফলে তারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংগঠিতভাবে কাজ করতে পারেনি। এ বাস্তবতায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলকে জাতীয় রাজনীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা সঠিক নয়।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কখনোই প্রভাব ফেলেনি। অতীত ইতিহাসেও এর কোনো নজির নেই। আশা করি, এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না।’
এদিকে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, গোটা দেশের মানুষ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপির একাধিক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, এসব ঘটনায় দলীয়ভাবে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেবে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আগামী ১২ জানুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঠাকুরগাঁও সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমান যখন দেশে ফেরেন, তখন তাঁকে স্বাগত জানাতে ঢাকায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। জেলা পর্যায়ে তাঁর সফরগুলো স্থানীয় নেতা-কর্মীদের আরও উজ্জীবিত করবে বলেও তিনি মনে করেন।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গণভোটে ‘না’ বলার পক্ষে প্রচারণা চালানো নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। তাঁর ভাষায়, বিএনপি শুরু থেকেই একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন চেয়েছিল, যা এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার বিএনপির রাজনৈতিক চিন্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০১৬ ও ২০২৩ সালে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির মধ্যেই সংস্কারের বিষয়গুলো জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছিল। তাঁর মতে, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং সেখানে ‘না’ বলার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই।