
ইসলাম মানুষকে অন্যের কাছে হাত পেতে চলার পরিবর্তে নিজের শ্রম, মেধা ও বৈধ উপার্জনের মাধ্যমে সম্মানজনক জীবন গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেছে। দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে স্বাবলম্বী হতে ব্যক্তিগত পরিশ্রমের পাশাপাশি সঠিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, হালাল উপার্জন এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বাবলম্বী হওয়ার প্রথম শর্ত হিসেবে পরিশ্রম ও উদ্যোগী হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অলসতা পরিহার করে বৈধ উপায়ে কাজ করা এবং দক্ষতা অর্জনের প্রতি ইসলাম উৎসাহিত করে। এ ক্ষেত্রে হজরত দাউদ (আ.)-এর নিজের হাতের উপার্জন থেকে আহার করার বিষয়টি হাদিসে তুলে ধরা হয়েছে।
জীবিকার প্রয়োজনে কর্মস্থল বা বসবাসের স্থান পরিবর্তনের বিষয়টিও ইসলামে স্বীকৃত। উন্নত জীবিকা, নিরাপদ পরিবেশ কিংবা প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে অন্যত্র যাওয়ার মাধ্যমে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আল্লাহপ্রদত্ত প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার কৃষি, শিল্প ও ব্যবসার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।
আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয় করা এবং অপচয় পরিহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বৈধভাবে সঞ্চয় ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষি, ব্যবসা ও শিল্পে বিনিয়োগ যেমন ব্যক্তিগত আয় বাড়াতে পারে, তেমনি কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করে।
ইসলাম হালাল উপার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সুদ, ঘুস, জুয়া, প্রতারণা ও অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে। একই সঙ্গে জাকাত ও সদকার মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ইসলামি দৃষ্টিতে স্বাবলম্বিতা শুধু নিজের আর্থিক উন্নতি নয়; বরং নিজের সক্ষমতা বাড়িয়ে সমাজের অন্যদের কল্যাণে ভূমিকা রাখারও একটি মাধ্যম।
১. পরিশ্রম ও উদ্যোগী হওয়া
২. প্রয়োজনে কর্মস্থল পরিবর্তন করা
৩. প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার
৪. সাশ্রয়ী ব্যয় ও অপচয় বর্জন
৫. সঞ্চয় ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগ
৬. হালাল উপার্জনে অবিচল থাকা
৭. জাকাত ও সদকার মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখা
৮. আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো