
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৫৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ১ হাজার ৮৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ইতুরি, উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু, ওত-উয়েলে এবং শোপো—এই পাঁচটি প্রদেশে ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সরকারি হিসাবে যে সংখ্যাটি প্রকাশ করা হয়েছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা তার চেয়ে বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলার বিস্তার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব হিসেবে ঘোষণা করার কয়েক মাস আগেই শুরু হয়েছিল। গত ১৫ মে প্রাদুর্ভাবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলেও গবেষণায় এর আগের সময়ের সংক্রমণের তথ্য উঠে এসেছে।
গত মাসে ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, এই প্রাদুর্ভাব জানুয়ারি বা তারও আগে ইতুরি প্রদেশে শুরু হয়ে থাকতে পারে। গবেষকরা জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগ শনাক্তে বিলম্ব, দুর্বল নজরদারি ব্যবস্থা, চলমান সামরিক সংঘাত এবং ভাইরাসটির ধরনটির বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা ও চিকিৎসার সীমাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায়। ওই সময় গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ২৮ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন।
ডিআর কঙ্গোর বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ শনাক্ত, নজরদারি জোরদার এবং আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।