
তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে। বন্যার পানির চাপে একটি আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও গৃহপালিত পশু নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যার পর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে নদীর পানি দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত বেড়ে যায়। এতে দহগ্রাম ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়। পরে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবল স্রোতের চাপে আঞ্চলিক সড়কের একটি অংশ ভেঙে যায়।
বন্যায় ইউনিয়নের অন্তত ১০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ৫০০ একর আমন ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যায়। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি কমতে শুরু করায় কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
দহগ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিসটিয়ারপাড় এলাকা থেকে আঙ্গরপোতা ও পাটগ্রামমুখী আঞ্চলিক পাকা সড়কের প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে প্রায় ১০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ডাঙ্গাপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, প্রধানপাড়া, ওলেরপাড় ও সাকোয়াপাড়াসহ কয়েকটি এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় দুই হাজার পরিবার এতে সরাসরি ভোগান্তিতে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের সৃষ্টিয়ারপাড় এলাকায় সাকোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলের আকস্মিক স্রোতে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে এবং এক-দুই দিনের মধ্যে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেনও জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি মেরামতের বিষয়ে সড়ক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্লাবিত ১০টি এলাকার পানি কমতে শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।