
থাইল্যান্ডের নোন্তাবুরি প্রদেশের একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর গুলিতে শিক্ষকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় দেশটির রাজধানী ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাং ক্রুয়াই জেলার দেবসিরিন নোন্তাবুরি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবর্ষণের ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারী ওই স্কুলেরই একজন শিক্ষার্থী। গুলি চালানোর পর সে নিজেই আত্মহত্যা করে। নিহতদের মধ্যে একজন শিক্ষক রয়েছেন। আহত চারজনের মধ্যে আরও একজন শিক্ষক ও তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার সদস্যরা স্কুলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর স্কুল প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী জানিয়েছে, প্রথমে গুলির শব্দকে অনেকে আতশবাজি বা অন্য কোনো শব্দ বলে মনে করেছিলেন। পরপর শব্দ শোনার পর তারা বুঝতে পারেন, সেটি বন্দুকের গুলির শব্দ।
দেবসিরিন নোন্তাবুরি স্কুলে প্রায় ৩ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক রয়েছেন। ঘটনার পর বিদ্যালয়টির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন থাকলেও দেশটির কিছু এলাকায় ব্যক্তিগত বন্দুকের মালিকানা তুলনামূলক বেশি। এর আগেও দেশটির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলের হাতাই জেলার একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় একজন শিক্ষক নিহত ও একজন শিক্ষার্থী আহত হন। এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবরে নং বুয়া লামফু প্রদেশের একটি শিশু যত্নকেন্দ্রে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় বহু মানুষ নিহত হন। ওই ঘটনার পর থাইল্যান্ডে অস্ত্র কেনা ও লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে মেডিকেল মূল্যায়নসহ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন নিয়ম আরও কঠোর করা হয়।
নোন্তাবুরির সর্বশেষ ঘটনায় হামলার কারণ এবং শিক্ষার্থীর হাতে অস্ত্র কীভাবে পৌঁছাল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর স্কুল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।