
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার লক্ষ্যে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সংবিধান অনুযায়ী জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বহাল রাখার রায় দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন এই পদক্ষেপ নিলেন তিনি।
নতুন দুটি নির্বাহী আদেশের একটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিদ্যমান ব্যতিক্রমের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বিদেশি কূটনীতিকদের পাশাপাশি আক্রমণকারীদের সন্তান, নাগরিকত্ব কেনার চেষ্টা করছেন বলে বিবেচিত ব্যক্তিদের সন্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া শিশুদেরও এই সুবিধার বাইরে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্য নির্বাহী আদেশে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশি নারীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে, সেটি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে ‘প্রহসনে’ পরিণত করেছে এবং তার প্রশাসন এ বিষয়ে নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অস্থায়ী ভিসাধারী ও অনথিভুক্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব সীমিত করার একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প। তবে পরবর্তীতে আদালতে সেই উদ্যোগ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে সুপ্রিম কোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত ধারা উল্লেখ করে ওই উদ্যোগকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।
নতুন নির্বাহী আদেশ নিয়েও আইনি প্রশ্ন উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপগুলোও আদালতে টিকে থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে আইনি বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।