
শীতকাল শুরু হলেই সর্দি–কাশি, জ্বর, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের মতো নানা অসুখে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা মানুষ এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। চিকিৎসকদের মতে, শীতকালীন এসব রোগ থেকে সুরক্ষার প্রধান উপায় হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি শক্তিশালী রাখা।
শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া ঠান্ডার কারণে ঘাম কম হয়, ফলে শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের হতে সময় লাগে। অনেকেই শীতে কম পানি পান করেন, যা শরীরকে আরও দুর্বল করে তোলে। এসব কারণ মিলেই শীতকালে রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
১. পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ
শীতকালে সঠিক খাবার হতে পারে রোগ প্রতিরোধের প্রথম ঢাল। খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলা, মাল্টা ও লেবু রাখা জরুরি। পাশাপাশি লাল শাক, পালং শাক, গাজর, বাঁধাকপির মতো শাকসবজি শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়। আদা, রসুন, মধু, খেজুর ও বাদাম শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বাড়িয়ে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।
২. পর্যাপ্ত পানি পান
শীতে তৃষ্ণা কম লাগলেও শরীরের পানির চাহিদা কমে না। প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। গরম পানি বা হালকা গরম পানীয় যেমন আদা চা বা লেবু চা পান করলে সর্দি–কাশির ঝুঁকি কমে।
৩. নিয়মিত হালকা ব্যায়াম
শীতের কারণে অনেকেই অলস হয়ে পড়েন। তবে নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় রাখে।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম
প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রোগ প্রতিরোধী কোষগুলোর কার্যকারিতা কমে যায়, ফলে সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
৫. রোদে থাকা ও ভিটামিন ডি
শীতকালে সূর্যের আলো কম পাওয়ায় অনেকের ভিটামিন ডি–এর ঘাটতি দেখা দেয়। প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সকালের রোদে থাকলে শরীর ভিটামিন ডি পায়, যা ইমিউনিটি বাড়াতে সহায়ক।
৬. শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ সতর্কতা
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, ভেজা কাপড় দ্রুত বদলানো এবং ঠান্ডা লাগার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে কিংবা শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেও অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শীতকাল মানেই অসুস্থতা—এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সচেতন থাকলে শীতকালও সুস্থভাবে পার করা সম্ভব। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখাই পারে শীতের নানা রোগ থেকে আমাদের নিরাপদ রাখতে।