
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মন খারাপ লাগা, অকারণে বিরক্তি, উদ্বেগ বা কোনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার পেছনে অনেক সময় ভূমিকা রাখে কর্টিসল, যা ‘স্ট্রেস হরমোন’ নামে পরিচিত। এই হরমোন শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বিপাকক্রিয়া পরিচালনা এবং প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে এর মাত্রা বেড়ে গেলে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
প্রতিদিন সকালে হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম শরীর ও মনকে চাঙা রাখতে সাহায্য করে। খোলা পরিবেশে কিছু সময় কাটানো এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
খালি পেটে অতিরিক্ত চা বা কফি এবং তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। এর পরিবর্তে খাদ্যতালিকায় রাখুন—
এসব খাবার শরীরে সেরোটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা ভালো লাগার অনুভূতি বাড়াতে সাহায্য করে।
পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভালোবাসার মানুষের সান্নিধ্য ও আন্তরিক স্পর্শ মানসিক স্বস্তি এনে দিতে পারে।
নিজের অনুভূতি বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া বা ডায়েরিতে লিখে রাখা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। আবেগ প্রকাশ করলে মানসিক ভারও অনেকটা হালকা হয়।
বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা, রান্না বা অন্য কোনো প্রিয় কাজের জন্য প্রতিদিন কিছু সময় বরাদ্দ রাখুন। শখের চর্চা মানসিক প্রশান্তি বাড়ায় এবং স্ট্রেস কমাতে সহায়ক হতে পারে।
কর্টিসলের মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, ওজন বৃদ্ধি এবং উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়াম মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।