
চীন তাদের উন্নত ডিএফ-১৭ (DF-17) হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ব্যাপক মোতায়েনের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি সম্প্রচারিত একটি সামরিক ডকু-সিরিজে চায়নিজ পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) রকেট ফোর্সের অন্তত ছয়টি ডিএফ-১৭ ট্রান্সপোর্টার-ইরেক্টর-লঞ্চার (TEL) যানকে একসঙ্গে মহড়ায় অংশ নিতে দেখা যায়।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামরিক বিশ্লেষক ঝাং জুনশে বলেন, এই প্রদর্শন ইঙ্গিত দেয় যে ডিএফ-১৭ এখন ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে এবং যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তার মতে, হাইপারসনিক গতিবেগ ও গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতার কারণে এই ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালাতে পারে।
ডিএফ-১৭ একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল (HGV) বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র। সাধারণভাবে হাইপারসনিক অস্ত্র শব্দের পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে উড়তে পারে এবং মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা থাকায় প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এগুলো প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১,৮০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ডিএফ-১৭ চীনের অ্যান্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া-ডিনায়াল (A2/AD) কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি এবং নৌবহরের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সিসিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিএফ-১৭ ইউনিটের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা গং চুনইউ জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটির নতুন সংস্করণে ওয়ারহেডের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে চারটি ডানা ও একটি লেজের পাখনা সংযোজন করা হয়েছে, যা এর উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকারিতা আরও উন্নত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালে প্রথম প্রকাশ্যে প্রদর্শনের পর থেকে ডিএফ-১৭-এর সক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক লঞ্চার একসঙ্গে প্রদর্শনের মাধ্যমে বেইজিং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে