
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকদের পুনরায় চাষাবাদে উৎসাহিত করতে বীজ প্রণোদনা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তালিকাভুক্ত ৬১ হাজার ৭৪৭ জন কৃষক এ কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ এক বিঘা জমির জন্য পাঁচ কেজি করে বীজ পাবেন। এ কর্মসূচির জন্য মোট ২ কোটি ২৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং প্রায় ৩ দশমিক ৮৭ টন বীজ বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে ডিএই থেকে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করে অতিপ্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেসব কৃষক নিজস্ব সক্ষমতায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে মনে করা হয়েছে, তাদের প্রাথমিক তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের প্রণোদনা কর্মসূচিতে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা। ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, এসব জেলায় ৬৬ হাজার ২৩১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রোপা আমনের বীজতলা ও অন্যান্য বীজতলার কয়েক হাজার হেক্টর জমি সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে যায়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের ৪৩টি জেলায় মোট ৮৭ হাজার ৯৩৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৫২ জন। তবে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি জেলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ডিএইর সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তার মতে, সহায়তার পরিমাণ সীমিত হলেও এটি দুর্যোগকবলিত কৃষকদের পাশে সরকারের অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কয়েকজন জানিয়েছেন, বন্যায় তাদের ফসলের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার তুলনায় এই সহায়তা যথেষ্ট নয়। মৌলভীবাজারের ভুনবীর ইউনিয়নের কৃষক ফারুক মিয়া এবং শ্রীমঙ্গলের কৃষক পরিবারের সদস্য প্রোমা জানান, নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে অনেকেই উচ্চ সুদে এনজিও ঋণের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।