
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর স্পোকেনের আশপাশে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা। সাম্প্রতিক শীতল আবহাওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে কিছু অগ্রগতি হলেও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সপ্তাহের শেষ দিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
দমকল বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে তিনটি প্রধান দাবানলের চারপাশে আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিরোধমূলক বলয় তৈরি করা হয়েছে। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে কম আর্দ্রতা ও শুষ্ক বাতাস যুক্ত হলে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
গত সপ্তাহান্তে শুরু হওয়া এ দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫০টি স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রায় ৬৭ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাস্তুচ্যুত অনেকেই বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্র, হোটেল অথবা স্বজনদের বাসায় অবস্থান করছেন।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সবচেয়ে বড় ‘ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার’ নামে পরিচিত দাবানলটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছিল। এ ঘটনায় ৩৭ বছর বয়সী অ্যারন ফারিনাসিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং তার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলছে। তবে অপর দুটি দাবানলের সূত্রপাত মানবসৃষ্ট হলেও সেগুলো দুর্ঘটনাবশত নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
স্পোকেন কাউন্টির শেরিফ জন নোয়েলস জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রত্যাহার করা হবে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার আগে বাসিন্দাদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হলে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যজুড়ে বর্তমানে ডজনখানেকের বেশি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। এসব আগুন নিয়ন্ত্রণে সাত হাজারেরও বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী কাজ করছেন। প্রশাসনের মতে, চলতি মৌসুমটি অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানল মৌসুমে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।