
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক পদক্ষেপের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দেশটির সাতটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। বুধবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়ে জানায়, তালিকাভুক্ত মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চীনের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যবসা, বিনিয়োগ কিংবা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না।
এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন আগামী মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং তার সঙ্গে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের চলমান বাণিজ্য উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে একটি বায়োটেক প্রতিষ্ঠান, একটি রিসোর্স অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠানসহ মোট সাতটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এর আগে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ৪৩টি চীনা প্রতিষ্ঠানের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাশাপাশি ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে ওয়াশিংটন। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) চীন থেকে নতুন ধরনের মানবিক রোবট ও চার পায়ের রোবট আমদানিতেও নিষেধাজ্ঞা দেয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় চীন ড্রোন, ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি রপ্তানির নিয়ম কঠোর করেছে। পাশাপাশি সরকারি কাজে ব্যবহৃত মার্কিন বা বিদেশি সফটওয়্যারযুক্ত যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা তদন্ত শুরু করেছে এবং কিছু যৌথ শিল্প পরিদর্শন কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক পদক্ষেপের জবাবে বেইজিংয়ের সামনে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এসব পদক্ষেপ প্রত্যাহার করে গঠনমূলক ও স্থিতিশীল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে চীন আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে শুল্ক, প্রযুক্তি, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। উভয় দেশই নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় একের পর এক পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।