
অ্যাসিডিটি, ফুড পয়জনিং, ভাইরাল সংক্রমণ বা বদহজমের কারণে অনেক সময় বমি হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাময়িক সমস্যা হলেও বমির রং ও ধরন কখনো কখনো গুরুতর রোগের ইঙ্গিত দেয়। তাই চিকিৎসকদের মতে, বমির রংকে অবহেলা না করে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গ্যাস্ট্রোকিউর এন্ডোস্কোপি সেন্টার অ্যান্ড লিভার কেয়ার ক্লিনিকের কনসালট্যান্ট হেপাটোলজিস্ট ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. রাজদীপ মোর জানান, বাদামি, গাঢ় লাল বা কফির গুঁড়ার মতো বমি পরিপাকতন্ত্রের উপরের অংশে (Upper GI Tract) রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে। এতে খাদ্যনালি, পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের শুরু অংশে রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের রক্তপাত গুরুতর চিকিৎসা জরুরি অবস্থা। রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি, প্রয়োজন হলে আইসিইউতে স্থানান্তর এবং জরুরি আপার জিআই এন্ডোস্কোপি (Upper GI Endoscopy) করা প্রয়োজন হতে পারে। এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে রক্তক্ষরণের উৎস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, যেমন অ্যাডরেনালিন ইনজেকশন বা ব্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
উপরের পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণের সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পেপটিক আলসার, তীব্র গ্যাস্ট্রাইটিস এবং ইসোফেজিয়াল ভ্যারিস। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের লিভারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইসোফেজিয়াল ভ্যারিসের কারণে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেশি থাকে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, বাদামি, কালচে, লালচে বা কফির গুঁড়ার মতো বমি হলে তা কখনোই সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। ঘরোয়া চিকিৎসা বা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ার পরিবর্তে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতা কমানো এবং জীবনরক্ষা সম্ভব হতে পারে।