
সিরাজগঞ্জে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ে শহীদ এম. মনসুর আলী স্টেশনে পৌঁছালে দুর্ঘটনার শিকার হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রেনটির একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে নীলসাগর এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, বুড়িমাড়ি এক্সপ্রেস ও চিলাহাটি এক্সপ্রেসসহ অন্তত পাঁচটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের (পাকশী) বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটিতে আরও রয়েছেন বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার, যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ) রবিউল ইসলাম, লোকোমোটিভ প্রকৌশলী শেখ আসিফ আহমেদ এবং সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (টেলিকম) আহমেদ ইশতিয়াক জহর তানিম।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় ট্রেনটির একটি বগির দুটি চাকা সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং একটি চাকা লাইনের বাইরে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পাবনার পাকশী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার ও রেলপথ সচল করতে অন্তত তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। উদ্ধারকাজ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হবে।