
ডিজিটাল যুগে প্রেম, সম্পর্ক ও ডেটিং নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এখন খুবই সাধারণ বিষয়। তবে সম্প্রতি সম্পর্কবিষয়ক আলোচনায় নতুন একটি শব্দ গুরুত্ব পাচ্ছে—‘ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং’ (Friendfluencing)। মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায়, এটি এমন একটি প্রবণতা, যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের প্রেম বা সম্পর্কসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বন্ধুদের মতামতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
সাধারণভাবে বন্ধুদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া স্বাভাবিক এবং অনেক সময় তা উপকারীও হতে পারে। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন সম্পর্কের প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্ত—কাকে ভালোবাসবেন, কীভাবে বার্তা পাঠাবেন, সম্পর্ক চালিয়ে যাবেন নাকি শেষ করবেন—এসবই বন্ধুদের মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে থাকে। তখন ব্যক্তিগত সম্পর্কটি ধীরে ধীরে নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে একটি ‘গ্রুপ প্রজেক্ট’-এ পরিণত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিংয়ের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। কঠিন সময়, মানসিক চাপ বা সম্পর্কের জটিল পরিস্থিতিতে বন্ধুদের সমর্থন একজন মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহস জোগাতে পারে। তারা অনেক সময় এমন বিষয়ও শনাক্ত করতে পারেন, যা সম্পর্কের ভেতরে থাকা ব্যক্তি সহজে বুঝতে পারেন না।
তবে এর নেতিবাচক প্রভাবও কম নয়। অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ক সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও বন্ধুদের অতিরিক্ত নেতিবাচক মন্তব্য বা একপাক্ষিক মূল্যায়নের কারণে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। এমনকি হুট করেই সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে, যা পরে অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মনোবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন, সম্পর্কের বিষয়ে বন্ধুদের মতামত শোনা যেতে পারে, তবে ব্যক্তিগত জীবনের একটি সুস্পষ্ট সীমারেখা বা বাউন্ডারি বজায় রাখা জরুরি। সম্পর্কের সব বিষয় সবার সঙ্গে ভাগ না করে, প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোই আলোচনা করা উচিত। পাশাপাশি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের অনুভূতি, বাস্তবতা এবং সঙ্গীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও খোলামেলা যোগাযোগ। তাই বন্ধুদের পরামর্শ মূল্যবান হলেও, নিজের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত নিজের হাতেই থাকা উচিত।