
ব্যয় কমানো এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের কার্যক্রম আরও দক্ষ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত পাঁচটি বৈদেশিক মিশন বন্ধের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। কোনো বড় ভূ-রাজনৈতিক সংকট ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক বিদেশি মিশন বন্ধের এমন উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বিরল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেনাডার সেন্ট জর্জেস, জাপানের নাগোয়া, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, ক্যামেরুনের ডুয়ালা এবং কানাডার উইনিপেগে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সেন্ট জর্জেসে একটি দূতাবাস, নাগোয়া, মেদান ও উইনিপেগে কনস্যুলেট এবং ডুয়ালায় একটি দূতাবাসের শাখা কার্যালয় রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় সরকারি ব্যয় কমানো ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে গত বছরও প্রায় এক ডজন বিদেশি মিশন বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট আরও প্রায় ৩০টি বিদেশি মিশন বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে পররাষ্ট্র দপ্তর অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় ও অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে। তাই ব্যয় হ্রাস ও কার্যক্রম আরও দক্ষ করার জন্য এই সংস্কার প্রয়োজন। তবে পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে মিশন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও জানিয়েছে, কূটনৈতিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে তারা কাজ করছে এবং এ ধরনের সিদ্ধান্তে কংগ্রেসকে অবহিতসহ সব আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট নেতা, সাবেক কূটনীতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি কমে গেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের প্রভাব দুর্বল হতে পারে। এতে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো আরও বেশি কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।