
ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতে নতুন ও অভিনব কৌশল খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এ লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর গোয়েন্দা শাখার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে নতুন ও সৃজনশীল প্রস্তাব চেয়েছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ ই-মেইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং তাদের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনে কার্যকর হতে পারে—এমন নতুন ধারণা ও বিকল্প কৌশল উপস্থাপনের আহ্বান জানান। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উন্মুক্তভাবে মতামত আহ্বান করা মার্কিন সামরিক কাঠামোতে তুলনামূলক বিরল ঘটনা। এটি ইঙ্গিত করে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যমান কৌশলগুলো পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স বলেন, নতুন ও উদ্ভাবনী ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া সংস্থাটির দীর্ঘদিনের চর্চা। তিনি জানান, সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল কুপার পদমর্যাদা নির্বিশেষে সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনায় নেন।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নিয়েও ওয়াশিংটনের নজর রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সিআইএ ও ডিআইএ-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানকে কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করা কঠিন হতে পারে। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, কেবল বিমান শক্তি ব্যবহার করে সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে চাইলেও অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখতে চাইছে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়বে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হবে।