
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য হুমায়ুনের সমাধিসৌধ বর্তমানে বায়ুদূষণের কারণে ধীরে ধীরে ক্ষয়ের মুখে পড়ছে। মোগল স্থাপত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শনকে ঘিরে পরিচালিত আইআইটি-রুরকি ও আইআইটি-কানপুরের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য।
১৫৫৬ সালে মোগল সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বেগা বেগম স্বামীর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে এই সমাধিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৫৭২ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া এই স্থাপনাটি ভারতের প্রথম বৃহৎ বাগান-সমাধিসৌধ হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিকভাবে এটিকে তাজমহলের স্থাপত্যিক অনুপ্রেরণা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব আর্কিটেকচারাল হেরিটেজ-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের ফলে সমাধিসৌধের বেলেপাথরের ওপর একটি কালো আস্তরণ তৈরি হচ্ছে, যা ক্ষয়প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করছে। গবেষকরা স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ থেকে সংগৃহীত নমুনার রাসায়নিক উপাদান, খনিজ গঠন ও আণুবীক্ষণিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এই কালো স্তরের প্রধান উপাদান জিপসাম।
গবেষণা অনুযায়ী, দূষিত বাতাসে থাকা সালফার ডাই-অক্সাইড, ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ ধূলিকণা ও আর্দ্রতার রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জিপসাম তৈরি হয়। পরে এই স্তরে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলো, শিল্পকারখানার দূষণ, জৈব পদার্থ পোড়ানোর ধোঁয়া এবং সূক্ষ্ম ধাতব কণা জমে স্থাপনাটির ওপর কালো প্রলেপ সৃষ্টি করে।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যেসব অংশে বৃষ্টির পানি পৌঁছায় না, সেখানে এই কালো আস্তরণ সবচেয়ে বেশি জমেছে। অন্যদিকে, বৃষ্টির সংস্পর্শে থাকা অংশগুলোতে তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর স্তর তৈরি হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, এই আস্তরণ শুধু বাহ্যিক দাগ নয়; বরং এটি বেলেপাথরের গঠন দুর্বল করে দীর্ঘমেয়াদে স্থাপনাটিকে আরও ক্ষয়প্রবণ করে তুলছে। তাই নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কালো আস্তরণ অপসারণ, দূষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ, সংরক্ষণমূলক প্রলেপ ব্যবহারের আগে পরীক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ও কম-নির্গমন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে হুমায়ুনের সমাধিসৌধকে ভবিষ্যতে দূষণজনিত ক্ষতি থেকে আরও কার্যকরভাবে রক্ষা করা সম্ভব হবে।