
বলিউড অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউতকে ঘিরে নতুন একটি বিতর্কের জেরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে অভিনেতা হৃত্বিক রোশন–এর সঙ্গে তার প্রায় এক দশক পুরোনো বিরোধ। সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া বিতর্কে হৃত্বিকের নাম জড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি কঙ্গনা একটি আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তরুণ প্রজন্মকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন। এর জবাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মুখপাত্র সৌরভ দাস রসিকতার ছলে বলেন, তাকে নাকি অনেকেই তরুণ বয়সের হৃত্বিক রোশনের সঙ্গে তুলনা করেন, তাই হয়তো কঙ্গনা তাকে আক্রমণ করছেন। এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঙ্গনা-হৃত্বিকের অতীত সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ আবার আলোচনায় আসে।
এ সময় লেখক ফ্রেডি বার্ডির একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টও ব্যাপক আলোচিত হয়। সেখানে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় লেখেন, "বিশ্বের উচিত হৃত্বিক রোশনের কাছে ক্ষমা চাওয়া।" এরপর বিষয়টি আরও ছড়িয়ে পড়ে।
তবে হৃত্বিক রোশন সরাসরি এই বিতর্কে জড়াতে চাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে অপছন্দ করার কারণে অন্য পক্ষকে সমর্থন করা সমাজের একটি বড় সমস্যা। তিনি তথ্যভিত্তিক ও প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ আলোচনার পক্ষে মত দেন এবং আবেগের পরিবর্তে বাস্তব তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, কঙ্গনা রানাউত ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে হৃত্বিকের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি হৃত্বিক ও তার বর্তমান সঙ্গী সাবা আজাদকে শুভকামনা জানিয়ে লেখেন, অন্যদের তার নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে উৎসাহ না দেওয়াই উচিত। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পুরোনো বিষয় টেনে তাকে লক্ষ্য করে অনলাইন হয়রানি করা হচ্ছে।
কঙ্গনা ও হৃত্বিকের বিরোধের সূত্রপাত ২০১৬ সালে। সে সময় কঙ্গনা এক সাক্ষাৎকারে হৃত্বিককে তার "সিলি এক্স" বলে উল্লেখ করেন এবং দুজনের মধ্যে অতীতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেন। তবে হৃত্বিক শুরু থেকেই সেই দাবি অস্বীকার করে আসছেন। এরপর উভয়ের মধ্যে আইনি নোটিশ বিনিময় হয় এবং বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বলিউডের অন্যতম আলোচিত বিতর্কে পরিণত হয়।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই পুরোনো বিরোধ আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।