
ইরানে চলমান দেশব্যাপী বিক্ষোভে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, চরম অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন টানা ১৩ দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে।
এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১১১টি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অন্তত ৩০০টি স্থানে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাস্তায় মিছিলের পাশাপাশি শ্রমিকদের ধর্মঘট, দোকানপাট বন্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আন্দোলনও এই বিক্ষোভের অংশ হয়ে উঠেছে।
সংস্থাটি জানায়, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও অন্তত ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিক্ষোভ কেবল একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরে এর প্রভাব পড়েছে।
এইচআরএএনএর হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। আহত হয়েছেন অন্তত ৫১ জন। আহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া পেলেট বা প্লাস্টিক বুলেটে আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পশ্চিম ইরানের মালেকশাহী শহরেই অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। দেশটির সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এসফারায়েন শহরে বিক্ষোভকারীরা এক স্থানীয় কৌঁসুলি ও কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্যকে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি অভিযোগ করেন, এই অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তিনি কিছু বিক্ষোভকারীকে বিদেশি স্বার্থে কাজ করা দাঙ্গাবাজ বলেও আখ্যা দেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। সে সময় ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান নেমে আসে প্রতি ডলারে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার রিয়ালে। প্রায় ৫২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় তীব্রভাবে বেড়ে যায়। শুরুতে বিক্ষোভ সীমিত থাকলেও ধীরে ধীরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভ কতদিন চলবে এবং এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।