
মুমিনের জীবনে দোয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সুরা গাফির: ৬০)। অন্যদিকে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়াকে ইবাদতের মূল বা মগজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—আল্লাহ যেহেতু সবকিছু পূর্বনির্ধারণ করে রেখেছেন, তাহলে দোয়া কি সত্যিই ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে?
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “দোয়া ছাড়া আর কিছুই তকদির (ভাগ্য) পরিবর্তন করতে পারে না।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১৩৯)। ইসলামি আলেমরা এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে আল্লাহর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয় নয়; বরং আল্লাহর চিরন্তন জ্ঞানের মধ্যেই দোয়া এবং তার ফল অন্তর্ভুক্ত।
আলেমদের মতে, মহান আল্লাহ পূর্ব থেকেই জানেন কোন বান্দা কখন দোয়া করবে এবং সেই দোয়ার কারণে কোন বিপদ দূর হবে বা হালকা হবে। অর্থাৎ দোয়া করা এবং দোয়ার মাধ্যমে কল্যাণ লাভ—দুটিই আল্লাহর নির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ। এছাড়া অনেক সময় দোয়ার বরকতে বড় কোনো বিপদ সম্পূর্ণ দূর না হলেও তার তীব্রতা কমে যায় বা তা সহ্য করা সহজ হয়ে ওঠে।
ইসলামে দোয়া কবুল হওয়ার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, একনিষ্ঠভাবে শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহ দোয়া কবুল করতে সক্ষম। তৃতীয়ত, দোয়া কবুলে বিলম্ব হলেও হতাশ হওয়া যাবে না; ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া চালিয়ে যেতে হবে।
একই সঙ্গে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে যে হারাম উপার্জন, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং গুনাহে লিপ্ত থাকা দোয়া কবুলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই দোয়ার পাশাপাশি নিজের আমল ও জীবনযাপনও ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করা জরুরি।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, কোনো দোয়াই বৃথা যায় না। আল্লাহ চাইলে দুনিয়াতেই তা কবুল করেন, অথবা কোনো বিপদ দূর করে দেন, কিংবা এর প্রতিদান আখিরাতের জন্য সঞ্চিত রাখেন। তাই তকদিরের অজুহাতে দোয়া থেকে বিরত না থেকে সর্বদা আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করাই একজন মুমিনের করণীয়।