
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত ও আশ্বাসের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে কয়েক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচির পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন তারা।
এর আগে, আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের কারণে শাহবাগ থানার সামনে পুলিশ ব্যারিকেড ও জলকামান মোতায়েন করা হয় এবং শাহবাগ থেকে টিএসসি অভিমুখী সড়কের একাংশে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনকারীরা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী ফল প্রকাশের ১৭৫ দিন পার হলেও এখনো যোগদান করতে পারেননি। নিয়োগের সব ধাপ সম্পন্ন হলেও দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকার কারণে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
আন্দোলনের মধ্যেই দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগে নির্ধারিত ২৯ অক্টোবরের পরিবর্তে আগামী ১ অক্টোবর নির্বাচিত সহকারী শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। এরপর ২ অক্টোবর তাদের পদায়ন করা হবে। যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে এবং পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আন্দোলনকারীরা সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা জানান, প্রজ্ঞাপন প্রকাশ এবং তা সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পর তারা শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মৌখিক পরীক্ষা শেষে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হলেও এতদিন তাদের যোগদান সম্পন্ন হয়নি।