
শরীয়তপুরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন তিন শতাধিক নেতাকর্মী। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন।
শরীয়তপুর আঞ্চলিক বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল শেষে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ও সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্বে নবাগত নেতাকর্মীদের ফুলের মালা পরিয়ে দলে স্বাগত জানানো হয়।
বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—মজিবর রহমান খোকন, জেলা যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক রেজাউল করিম আদিব এবং জেলা যুব সংহতির সদস্য সচিব মো. সিয়াম। তাদের সঙ্গে যুবশক্তি, যুব সংহতি ও অন্যান্য সংগঠনের আরও অসংখ্য নেতাকর্মী বিএনপির পতাকাতলে সমবেত হন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মজিবর রহমান খোকন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দুই শতাধিক নেতাকর্মীসহ বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির নেতৃত্বে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
জেলা যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক রেজাউল করিম আদিব বলেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের যে প্রত্যাশা নিয়ে তারা এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন, তা বাস্তবায়িত হয়নি। সেই হতাশা থেকেই জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীসহ ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ সময় মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু নবাগত নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ পরিবার। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে হিংসা ও বিদ্বেষ পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, ঐক্যের মাধ্যমেই শরীয়তপুরকে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত জেলায় পরিণত করা সম্ভব।
বিএনপিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর যোগদানকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে এই যোগদান ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।