
ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক সাহাবি রয়েছেন, যাঁদের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় বিজয়ের পথ সুগম করেছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন নুয়াইম ইবনে মাসউদ (রা.), যাঁর অসাধারণ কৌশল খন্দকের যুদ্ধের সময় শত্রুদের শক্তিশালী মিত্রজোটকে ভেঙে দেয়।
হিজরি পঞ্চম সালে সংঘটিত খন্দকের যুদ্ধ (গাজওয়ায়ে আহজাব) ছিল মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত সংকটপূর্ণ একটি অধ্যায়। কুরাইশ, গাতফান, বনু নাজিরসহ বিভিন্ন গোত্র একত্রিত হয়ে মদিনা আক্রমণের প্রস্তুতি নেয়। একই সময়ে মুসলিমদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বনু কুরাইজাও শত্রুপক্ষে যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মুসলমানরা সামনে ও পেছন—উভয় দিক থেকেই আক্রমণের আশঙ্কায় পড়েন।
ঠিক এই সময় সদ্য ইসলাম গ্রহণকারী নুয়াইম ইবনে মাসউদ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে শত্রুদের দুর্বল করার জন্য একটি কৌশল প্রয়োগের অনুমতি চান। মহানবী (সা.) তাঁকে অনুমতি দিয়ে বলেন, "যুদ্ধ কৌশলেরই নাম।" (সহিহ বুখারি: ৩০৩০)
এরপর নুয়াইম (রা.) প্রথমে বনু কুরাইজাকে বোঝান যে, যুদ্ধ ব্যর্থ হলে কুরাইশ ও গাতফান নিজেদের এলাকায় ফিরে যাবে, কিন্তু বনু কুরাইজাকে একাই প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হবে। তাই তিনি তাদের পরামর্শ দেন, যুদ্ধ শুরুর আগে মিত্রদের কয়েকজন নেতাকে জিম্মি হিসেবে রাখতে।
পরে তিনি কুরাইশ ও গাতফানের নেতাদের কাছে গিয়ে জানান, বনু কুরাইজা নাকি গোপনে মুসলমানদের সঙ্গে সমঝোতা করছে এবং জিম্মি নেওয়ার পর তাদের রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে তুলে দিতে পারে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়। পরস্পরের ওপর আস্থা হারিয়ে মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে।
এরপর আল্লাহ তাআলা প্রবল ঝঞ্ঝাবায়ু প্রেরণ করেন, যা শত্রুদের শিবির ছিন্নভিন্ন করে দেয়। ভয় ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে তারা যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা আহজাবের ৯-১১ নম্বর আয়াতে এই ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।
নুয়াইম ইবনে মাসউদ (রা.)-এর এই দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রমাণ করে, ঈমান, প্রজ্ঞা ও সঠিক কৌশল অনেক সময় বিশাল বাহিনীর শক্তিকেও পরাজিত করতে পারে। ইসলামের ইতিহাসে তাঁর এই অবদান আজও অনুকরণীয় ও শিক্ষণীয়।