
অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস-সংলগ্ন তাল ও সারা গ্রামে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের মিছিলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বসতি স্থাপনকারীরা গ্রাম দুটির ভেতরের সড়ক ব্যবহার করে মিছিল করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিছিল চলাকালে তাল গ্রামের একটি কবরস্থানে ভাঙচুর চালানো হয়। বসতি স্থাপনকারীরা মৃত ফিলিস্তিনিদের স্মৃতিফলক ও পাথরের কাঠামো ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এ সময় প্রতিবাদ জানাতে গেলে ইসরাইলি সেনারা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
এদিকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ১২০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক বাড়িও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন মুছে ফেলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। বাড়িটি ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বহু বছর আগেই নির্মিত হয়েছিল।
অন্যদিকে, গাজা উপত্যকায়ও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। হামাস ‘গাজা বোর্ড অব পিস’ নামে একটি শান্তি পরিকল্পনার আওতায় অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য গাজার সালাহ আল-দিন সড়কে এক ব্যক্তি এবং গাজা শহরের সাবরা এলাকায় পৃথক ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়্যির গ্রামে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ১০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। এছাড়া নাবলুসের দক্ষিণে খাওয়ার্তা চেকপয়েন্টে এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে নাবলুসের টেল গ্রামে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরাইলি নিহত হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সেই ঘটনার পর থেকে এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।