
র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, পরিদর্শন শেষে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আয়নাঘরের আলামত নষ্ট বা গোপন করার সঙ্গে জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কথিত নির্যাতনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সেলগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতিদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই পরিদর্শন বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মামলার প্রমাণ মূল্যায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদকে ভারতে পাচারের আগে উত্তরার এই টিএফআই সেলে আটক রাখা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে উঠে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী টিএফআই সেল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ছাড়াও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার, তাসমিরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের সদস্য এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তের স্বার্থে আয়নাঘরের সব ধরনের আলামত সংরক্ষণ এবং সম্ভাব্য প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।