
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা জুলাই-গ্রাফিতি পুনর্লিখন ও পুনরায় রংকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি গ্রাফিতিগুলো সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং অঙ্কন শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির অন্যতম হলো ক্যাম্পাসজুড়ে থাকা জুলাই-গ্রাফিতির সংরক্ষণ ও পুনর্লিখন, যাতে সময়ের সঙ্গে এসব শিল্পকর্ম নষ্ট হয়ে না যায়।
এ ছাড়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ‘জুলাই স্মৃতি কর্নার’ চালু, বিভিন্ন অনুষদ ও আবাসিক হলে সেমিনার, স্মৃতিচারণ, প্রামাণ্যচিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, মোমবাতি প্রজ্বলন, দোয়া মাহফিল, প্রার্থনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশা, এসব আয়োজনের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, চেতনা ও স্মৃতিকে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।