ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৬৪৫টি আপিল জমা পড়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এসব আপিল করা হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল শুনানি শুরু হবে।
ইসি সূত্র জানায়, সারা দেশে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) ছিল শেষ দিন। শেষ দিনে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৭৬টি আপিল জমা পড়ে। এর আগে চার দিনে জমা হয়েছিল ৪৬৯টি আপিল। সব মিলিয়ে পাঁচ দিনে মোট আপিলের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৪৫টিতে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এসব আপিলের বেশির ভাগই করা হয়েছে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য। পাশাপাশি মনোনয়নপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও কিছু আপিল রয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে ১১টি আপিল জমা পড়েছিল। তবে শেষ দিনে বাতিলের বিরুদ্ধে কতটি এবং গ্রহণের বিরুদ্ধে কতটি আপিল হয়েছে—সে বিষয়ে আলাদা করে কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি কমিশন।
শুক্রবার ইসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলবে। এই শুনানি পর্ব চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
ইসি ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন শনিবার ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি হবে। পরদিন রোববার (১১ জানুয়ারি) ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল, সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর আপিল এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পরবর্তী দিনগুলোতে বাকি আপিলগুলোর শুনানির সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। শুনানি শেষে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়ন বহাল বা বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, আপিল ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ—এই ধাপগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপিল শুনানির মাধ্যমে প্রার্থীদের অভিযোগ ও আপত্তি নিষ্পত্তি করা হবে, যা নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
