
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্কের পরিণতিতে চীন থেকে বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন চীনা নাগরিক ওয়্যাং সুলিন (৩০)। ধর্মান্তরের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছে মো. নুর উদ্দিন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে মোহনগঞ্জে নবদম্পতির বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, গত ২১ জুলাই ওয়্যাং সুলিন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মোহনগঞ্জের বাসিন্দা নাজমিন আক্তার লিজার (২২) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ওয়্যাং সুলিন চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা। নিজ শহরে তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।
অন্যদিকে, কনে নাজমিন আক্তার লিজা মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁদের পরিবারের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে হলেও দীর্ঘদিন ধরে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় বসবাস করছেন। লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন পেশায় একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী।
লিজার বড় ভাই সোহান জানান, প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুকে সুলিন ও লিজার পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়। পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন সুলিন। পরে তাঁকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে পরিবারের সদস্যরা নিয়ে আসেন।
কনের বাবা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, বিয়ের আগে ছেলের পারিবারিক পরিচয় এবং চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পরই আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান জানান, বিদেশি নাগরিককে বিয়ে নিয়ে শুরুতে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের কারণে সবাই আশ্বস্ত হয়েছেন। এদিকে, চীনা নাগরিকের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মোহনগঞ্জের দৌলতপুর এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিদিনই অনেক মানুষ নবদম্পতিকে দেখতে ও ছবি তুলতে কনের বাড়িতে আসছেন।