
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় হঠাৎ করে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমিনবাজার এলাকায় তুরাগ নদীতে একটি মালবাহী ট্রলারের আঘাতে গ্যাস বিতরণ লাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলেই ঢাকা মহানগরীজুড়ে গ্যাস সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস জানায়, দুর্ঘটনার পর দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। তবে মেরামত চলাকালীন সময় পাইপলাইনের ভেতরে পানি প্রবেশ করে, যা পরবর্তীতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
তিতাসের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কারণে ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। অনেক এলাকায় রান্না, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে আবাসিক গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইপলাইনের প্রাথমিক মেরামত সম্পন্ন হলেও ভেতরে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং লাইনে স্বাভাবিক চাপ ফিরিয়ে আনতে সময় লাগছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ধাপে ধাপে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে তিতাস।
এদিকে সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক চাপ ফিরিয়ে আনা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী পারাপারের সময় গ্যাস পাইপলাইন আরও সুরক্ষিত করা এবং নৌযান চলাচলে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাস সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।