
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় জুমার নামাজে ইমামতি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে ছাত্রদল নেতা মো. রাহাতকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় এনসিপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ ১৫ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে আহত ছাত্রদল নেতা মো. রাহাতের বাবা নজরুল ব্যাপারী বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাঁথিয়া পৌর যুব জামায়াতের সেক্রেটারি সাদ্দাম ফকির, উপজেলা এনসিপির সদস্যসচিব ফারুক হোসেন এবং পৌর এনসিপির সদস্যসচিব মুজাহিদ ফকির।
আহত মো. রাহাত (১৯) সাঁথিয়া পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই সাঁথিয়া পৌরসভার ছেঁচানিয়া আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজে স্থানীয় ইমামকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে দিয়ে নামাজ পড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলে মুসল্লিদের মধ্যে আপত্তি দেখা দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং পুলিশি পাহারায় জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের সামনে রাহাতের পথরোধ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বাদী নজরুল ব্যাপারীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।