
পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) তথাকথিত আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ জনে পৌঁছেছে। সোমবার অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের সময় এবং এর আগে-পরে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) নামে একটি সংগঠনের ডাকা ‘লং মার্চ’ চলাকালে এই সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, তাদের কর্মসূচি রাওয়ালাকোট শহরে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে, যার ফলে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ব্যর্থতার পর হাজারো মানুষ মুজাফফরাবাদের দিকে পদযাত্রা শুরু করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এ সময় কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষের কারণে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখতে হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) অভিযোগ করেছে যে, ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের গুলিতে তাদের এক কর্মী নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিভিন্ন দল ভোট কারচুপির অভিযোগ এনেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি চলমান আন্দোলনের কারণে কিছু এলাকায় নির্ধারিত ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। পুরো পরিস্থিতি ঘিরে পিওকে অঞ্চলে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।