
বাংলাদেশের অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ব্যয়ের দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষ প্রকল্পগুলোর কাতারে চলে গেলেও এর সুবিধা ও মান নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালসড়ক নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা—যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অনেক বেশি। সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন দেয়, যেখানে ব্যয় এক লাফে প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
প্রকল্পটি শুরুতে ২০১৭ সালে অনুমোদন পায় এবং তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। পরে বিভিন্ন পর্যায়ে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়তে বাড়তে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে। ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, ভ্যাট-ট্যাক্সের পরিবর্তন, নতুন অবকাঠামো সংযোজন এবং ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জোনায়েদ সাকি।
অন্যদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তুলনামূলক কম ব্যয়ে নির্মিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি ও বহুমুখী সুবিধা। যেমন চীনের সিচুয়ান প্রদেশে নির্মিত দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়েতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় তুলনামূলক কম হলেও এতে রয়েছে টানেল, সেতু ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মালয়েশিয়ার দামনসারা-শাহ আলম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-এ যুক্ত করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও উন্নত টোল সিস্টেম।
ভারতের দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ে-তে বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং দীর্ঘ সুড়ঙ্গ সুবিধা রয়েছে, যা নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ব্যয় বাড়ানোই উন্নয়নের মাপকাঠি নয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, দেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব বিবেচনা করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে বড় বিনিয়োগ হলেও এর বাস্তব সুবিধা ও মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।