
গাইবান্ধার গণ-উন্নয়ন কেন্দ্র রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক অনন্য আনন্দঘন পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন-এর উপস্থিতিতে দিনটি যেন পরিণত হয় শিশু-কিশোরদের এক রঙিন উৎসবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নিজের লেখালেখির নানা অভিজ্ঞতা শোনান। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জয়িতা বর্মনের করা প্রশ্ন—কেন তিনি ‘নূরজাহান’ উপন্যাসটি লিখেছিলেন—এর জবাবে লেখক তুলে ধরেন সেই সৃষ্টির পেছনের গল্প। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য পঞ্চাশেরও বেশি বই লেখার প্রেরণা ও অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন তিনি।
শুধু কথোপকথনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি এই খ্যাতিমান লেখক। তিনি শিশুদের শোনান নানা মজার গল্প—গাধা ও শেয়ালের গল্প, সিংহের গল্প—যা শিক্ষার্থীরা গভীর মনোযোগে শোনে। পুরো পরিবেশে ছিল পিনপতন নীরবতা, যেন প্রতিটি শব্দ তারা হৃদয়ে ধারণ করছে।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরাই মঞ্চে উঠে গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করে। কাজী নজরুল ইসলামের ‘মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম’ গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে তারা অনুষ্ঠানে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। দর্শক সারিতে বসে ইমদাদুল হক মিলন উপভোগ করেন তাদের পরিবেশনা এবং শেষে মুগ্ধ হয়ে তাদের উৎসাহ দেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য লেখককে ঘিরে ধরে। মুহূর্তেই সাধারণ আয়োজনটি রূপ নেয় এক আনন্দঘন উৎসবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম স্বাগত বক্তব্য দেন এবং প্রতিষ্ঠাতা এম আবদুস সালাম শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। তারা দুজনই এমন একজন গুণী সাহিত্যিককে কাছে পেয়ে নিজেদের সৌভাগ্যবান বলে উল্লেখ করেন।
নিজের বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলনে শিক্ষার্থীরাই নেতৃত্ব দিয়েছে। তাই ভালোভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বসুন্ধরা শুভসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গাইবান্ধা সফরকালে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।