
অপ্রকাশিত গান, মিউজিক ভিডিওর ফুটেজ এবং ব্যক্তিগত ছবি চুরি ও ফাঁসের অভিযোগে বেনামী হ্যাকার চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা Ariana Grande। সোমবার (২৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভ্যারাইটি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি ফিশিং স্ক্যাম ও হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে গায়িকার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সহকর্মীর ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ করে অপ্রকাশিত কনটেন্ট চুরি করে আসছিল। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হ্যাকাররা শুধু আরিয়ানা গ্রান্ডের ডিভাইসই নয়, বরং তার প্রযোজক, ফটোগ্রাফার এবং ডিজিটাল টেকনিশিয়ানদের ব্যক্তিগত ড্রপবক্স ও গুগল অ্যাকাউন্টকেও লক্ষ্যবস্তু বানায়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, হ্যাকাররা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে ‘ব্যাকডোর’ বা গোপন প্রবেশপথ তৈরি করে দীর্ঘ সময় ধরে অপ্রকাশিত গান, মিউজিক ভিডিওর ফুটেজ, ছবি এবং অন্যান্য ডিজিটাল সম্পদ সংগ্রহ করে। পরে এসব তথ্য বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়।
আদালতে দাখিল করা নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০১১ সালে আরিয়ানা গ্রান্ডের সংগীতজীবন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তার শত শত অপ্রকাশিত তথ্য, গান ও ছবি ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ফাঁসের কারণে শিল্পী ও তার টিমকে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
পপ তারকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মামলার প্রধান উদ্দেশ্য কেবল ক্ষতিপূরণ আদায় নয়; বরং হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে শিল্পীদের সৃজনশীল কাজ এবং ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই আইনি উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি দিন দিন বাড়তে থাকায় বিনোদন অঙ্গনের শিল্পীদের জন্য এ ধরনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আরিয়ানা গ্রান্ডের এই মামলা ভবিষ্যতে শিল্পীদের অপ্রকাশিত কনটেন্ট সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।