
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলেও নদীর তীব্র স্রোতে একাধিক স্থানে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ইতোমধ্যে চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৬টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
গত ৫ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত টানা নয় দিনের ভারী বর্ষণে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর শুরু হয় ভয়াবহ নদীভাঙন, যা এখন স্থানীয়দের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।
বর্তমানে চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়া ছাড়াও সাহারবিল, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদীতীর ও বেড়িবাঁধের বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীতীরবর্তী ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০০টিরও বেশি বসতবাড়ি এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, রাতের অন্ধকারে নদীর স্রোতে মুহূর্তেই ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। অনেকেই পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। বর্তমানে তারা আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীর বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, শুধু ত্রাণ দিয়ে এই সংকটের সমাধান হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসনের পাশাপাশি নদী ড্রেজিং এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় চকরিয়া পৌরসভাসহ আশপাশের জনপদ, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে মাতামুহুরী নদী ও সংলগ্ন খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডও ইতোমধ্যে কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী, মরংঘোনা এবং পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের আনিছপাড়া এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ কাজ শুরু করেছে। এছাড়া সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘমেয়াদে নদী ড্রেজিং, স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপদ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা না গেলে মাতামুহুরী নদীর ভাঙনে প্রতিবছরই নতুন নতুন পরিবার সর্বস্ব হারানোর ঝুঁকিতে থাকবে।