
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সর্বশেষ রয়টার্স/ইপসোস জনমত জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি তিনজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। পাঁচ মাস আগে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই সমর্থনের হার এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি কেন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য কী। প্রায় ৬৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সামরিক অভিযানের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। এমনকি রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও এই মতামত রয়েছে।
ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ইরান যুদ্ধের ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছেন। কখনও তিনি ইরানের জনগণকে বর্তমান শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত করার কথা বলেছেন, আবার কখনও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস বা তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোর কথা উল্লেখ করেছেন। এসব ভিন্নমুখী বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট জনমত জরিপ দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও তা এখনও তুলনামূলকভাবে নিচের দিকেই রয়েছে। বর্তমানে তার অনুমোদনের হার ৩৭ শতাংশ, যা আগের মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনের অভাব আগামী কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও জনজীবনে পড়ছে। পেট্রলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়, এটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।