
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)-এর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের সময় চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের চায়না রোড এলাকায় অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে একটি গোষ্ঠী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ ও পদোন্নতি দিয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং সসম্মানে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন অবস্থায় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সামনে নিজেদের দাবি তুলে ধরতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মো. এমদাদ হোসেন। তিনি বলেন, ন্যায্য অধিকার ও কর্মসংস্থানের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
এদিকে, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জানায়, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে বিক্ষোভকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরো সময় স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রামে চাইনিজ ইকোনমিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে একদিকে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই বিক্ষোভ কর্মসংস্থান ও শ্রম অধিকার বিষয়ক আলোচনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।