
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় ফাঁদ পেতে শালিক পাখি শিকার ও জবাইয়ের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর বন্যপ্রাণী হত্যার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বন বিভাগ।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে নলডাঙ্গা থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন নাটোর এসএফএনটিসি, সামাজিক বন বিভাগ, রাজশাহীর ফরেস্ট রেঞ্জার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিলা এলাকার একটি বিলে ফাঁদ ও জাল ব্যবহার করে শালিক পাখি শিকার করে জবাই করা হয়েছে। বন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, শালিকসহ বিভিন্ন বন্য পাখি কৃষিজমির ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২০ ও ২৭ সেকেন্ডের দুটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি একটি বিল এলাকায় ফাঁদ পেতে শালিক পাখি ধরছেন। পরে পাখিগুলো জবাই করে একটি তালগাছের নিচে জড়ো করে রাখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি গত ১৯ জুলাই হাটবিলা গ্রামের একটি বিলে ঘটে। অভিযোগে বিপ্লব তালুকদার, আশিক হোসেন, ইসলাম হোসেন ও সজিব হোসেনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জবাইয়ের পর পাখিগুলো বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ফরেস্ট রেঞ্জার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নলডাঙ্গায় শালিক পাখি হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বন বিভাগকে ব্যথিত করেছে। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর সরাসরি আঘাত। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তা সুবেদার ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের পক্ষ থেকে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরে আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।