
ভারতের রাজধানী দিল্লির রামলিলা ময়দান এলাকায় একটি মসজিদ ও কবরস্থানসংলগ্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, স্থাপনাগুলো অবৈধভাবে নির্মিত ছিল। তবে মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, স্থাপনাগুলো আইনসম্মতভাবেই নির্মিত।
বুধবার ভোরে রামলিলা ময়দানের কাছে তুর্কমান গেট এলাকার ফয়েজ-ই-ইলাহি মসজিদের আশপাশে উচ্ছেদ অভিযান চালায় দিল্লি পৌর কর্পোরেশন (এমসিডি)। অভিযানে প্রায় ৩০০ কর্মীর সহায়তায় অন্তত ১৭টি বুলডোজার ব্যবহার করা হয়। ভাঙচুর শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে এলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান নির্বিঘ্ন করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো এলাকাকে নয়টি জোনে ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিটি জোনে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসিপি) পদমর্যাদার একজন করে কর্মকর্তা নেতৃত্ব দেন। পাশাপাশি সংবেদনশীল স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দিল্লি পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর আগে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। শান্তি বজায় রাখতে আমান কমিটি এবং স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সব ধরনের আস্থা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, কোনো চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তারা একে ধর্মীয় স্থাপনা ও কবরস্থানের মর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লিতে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, তা সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে সংলাপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।